বাংলাদেশ ৩২০ রানে অলআউট

38
15th-august
Print Friendly
image-103343-1506771701অনলাইন ডেস্ক: চলমান টেস্টের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের ইনিংস সর্বোচ্চ ছিল ৩২৬ রান। যদিও সেটা ঘরের মাঠে। কিন্তু প্রোটিয়াদের মাটিতে আজকের আগে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইংনিংস ২৫২ রানের। ২০০২ সালে সাউথ আফ্রিকার ইস্ট লন্ডনে ওই সংগ্রহটা করেছিল টিম বাংলদেশ। দীর্ঘ ১৫ বছর পর আজ পচেফস্ট্রুমে ৩২০ রান করেছে মুশফিক-সাব্বিররা। অর্থাৎ প্রোটিয়াদের মাঠে অদ্যাবধি যে কয়বার লড়াইয়ে নেমেছে বাংলাদেশ, তার মধ্যে এটাই সেরা।
 
কেসব মাহারাজের হালকা আউট সুইঙ্গার বলটিতে খোঁচা দিলেন শফিউল ইসলাম। বল চলে গেলো প্রথম স্লিপে হাশিম আমলার হাতে। সঙ্গে সঙ্গেই শেষ বাংলাদেশের ইনিংস। প্রথম ইনিংসে প্রোটিয়াদের ৪৯৬ রানের জবাবে ৩২০ রানে থামলো বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসেই স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার লিড ১৭৬ রান।
 
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ৪৯৬ রানে ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাব দিতে নেমে মুমিনুলের ৭৭ এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ৬৬ রানের ওপর ভর করে ফলোঅন এড়ানোই নয় শুধু, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথমবারেরমত কোনো ইনিংসে রান ৩০০ প্লাস করলো বাংলাদেশ। ৪৪ রান করেন মুশফিক, ৩৯ রান করেন তামিম।
 
শফিউল আউট হওয়ার আগে সাজঘরে ফিরেছিলেন মাহমুদউল্লাহ এবং তাসকিন। মরনে মর্কেলের বলটি কোমর সমান বাউন্স হয়ে আসছিল। মাহমুদউল্লাহ চেষ্টা করলেন ড্রাইভ করার জন্য। কিন্তু ভেতরের কানায় লেগে বল চলে গেলো সোজা স্ট্যাম্পে। যেন নিজেই নিজে বলটিকে স্ট্যাম্পে টেনে নিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৬৬ রানের দারুণ একটি ইনিংসের পরিসমাপ্তিও ঘটে গেলো সঙ্গে সঙ্গে।
 
২৯২ রানে সাব্বির রহমান বোল্ড হয়ে যাওয়ার পর মাঠে নেমেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে মিলে ১২ রানের জুটি গড়ে উইকেটে থিতু হওয়ার চেষ্টা করেন মিরাজ। কিন্তু ৮৪তম ওভারে এসে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরে যেতে হলো রিয়াদকে। ১২৪ বল খেলে ১১ বাউন্ডারির সঙ্গে ১টি ছক্কা মেরে ৬৬ রান করেন তিনি।
 
রিয়াদ আউট হওয়ার পর মাঠে নামেন তাসকিন আহমেদ। ব্যাটসম্যান নন। তবে শেষ দিকে যেন একটু সাপোর্ট তাসকিনরা দিতে পারেন, এ জন্য একজন ব্যাটিং কোচও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে দুর্ভাগ্য রানআউটের শিকার হতে হলো তাসকিনকে। রাবাদার বলে অফ সাইবের বলটি ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে সুন্দর শট খেলেন তাসকিন। তবে সেখানে ফিল্ডার ছিলেন টেম্বা ভাবুমা। দারুণ ফিল্ডিং করেন তিনি। তবে তাসকিন ক্রিজ ছেড়ে অনেক দুর এগিয়ে যান। ফলে রানআউট হতে হলো তাসকিনকে।
 
মুমিনুলের আউটের পর উইকেট সামলাতে ক্রিজে নামেন সাব্বির রহমান। জুটি গড়েন মাহমুদউল্লাহর সাথে। দু’জনে মিলে খেলেন ৬৫ রানের একটি অসাধারণ জুটিও; কিন্তু এই জুটিকে আর বেশিদূর এগিয়ে নিতে দেননি দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার দুয়ান অলিভিয়ের। প্রথম থেকে মারমুখি হয়ে খেলতে থাকা সাব্বিরকে সরাসরি বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান এই প্রোটিয়া পেসার।
 
প্রথম থেকেই বেশ মারমুখি হয়ে খেলছিলেন সাব্বির। তার ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল এটা কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ, নয়তো ওয়ানডে। ৩০ রান তুলতে বাউন্ডারি মেরেছেন ৪টি এবং ছক্কা একটি। আর বল খরচ করেছেন মাত্র ৪৬টি! পুরো ইনিংসে সাব্বিরই প্রথম বোল্ড হলেন। বাকিরা আউট হয়েছেন সবাই ক্যাচ দিয়ে।
 
সাব্বিরের আউট হওয়ার পর নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নামেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২ রান নিয়ে অপরাজিত রয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেট হারিয়ে ৩০০ রান। এখনও ১৯৬ রান পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। আপাতত ফলোঅনের শঙ্কা কাটানো গেছে বাংলাদেশের।
 
উল্লেখ্য, এর আগে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ব্যাট করে ৩ উইকেট হারিয়ে ৪৯৬ রানের পাহাড় গড়ে ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রোটিয়াদের ৪৯৬ জবাবে ৩৬ রানের মধ্যে ২ উইকেট খুইয়ে বিপদে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ।
শেয়ার করুন ...Share on FacebookShare on VKShare on YummlyBuffer this pageShare on Google+Tweet about this on TwitterPin on PinterestShare on LinkedInShare on RedditPrint this pageEmail this to someone